গতকাল (20 জুন) চট্টগ্রামের পলো গ্রাউন্ড এলাকায় একটি স্কুল কম্পাউন্ডে চুরির সন্দেহে মারধরের অভিযোগে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তার পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাকেও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল।
নিহত মোঃ জয়নাল (২৭)কে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পরে তিনি আহত হয়ে মারা যান।
ঘটনার পর তার মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ইকবাল হোসেন জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অফিসের পিছনের জানালা দিয়ে স্কুল ভবনে ঢোকার চেষ্টা করার সময় জয়নালকে ধরা হয়।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, চুরির সন্দেহে দুই স্কুলের প্রহরী তাকে ধরে ফেলে এবং লাঞ্ছিত করে। ঘটনাটি একটি ভিড়কে আকৃষ্ট করে, এবং শিকারটিকে পরে স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করতে এলে পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখায় এবং প্রথমে কর্মকর্তাদের তা নিয়ে যেতে বাধা দেয়।
বিক্ষোভ চলাকালে স্বজনরা বলেন, “তারা আমার ভাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা লাশ যেতে দেব না।”
পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
নিহতের মা চেনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে শুধু মারধর করা হয়নি, বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়েছে।
তিনি তার ছেলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ স্কুলের দুই প্রহরী সমীর দাস ও আবদুস সামাদ আজাদকে আটক করেছে।
পরিদর্শক ইকবাল বলেন, তদন্তকারীরা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন, যার মধ্যে দাবি করা হয়েছে যে ভিকটিমকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তদন্ত চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।