কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মামলা করা হয়েছে।
গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন সদর দক্ষিণ উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। তবে মামলার খবর আজ (২৪ জুন) প্রকাশ্যে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলায় মুফতি ফয়জুল করিম ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা কাদের মিয়াঝিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে যুবদলের ১নং ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দাবি করেন। কুমিল্লা মেট্রোপলিটন ইউনিটে ২৬টি ইউনিট।
তবে যুবদলের মহানগর শাখার নেতারা জানিয়েছেন, তিনি সংগঠনের কোনো পর্যায়ের সদস্য নন।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান জানান, যুবদলের সঙ্গে খোকন তালুকদারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এর আগে যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুন সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর, উপহাসমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
অভিযোগে অভিযোগ করা হয়েছে যে একটি ইউটিউব ভিডিও আইন প্রণেতার দাড়ি, টুপি এবং পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে, যখন একটি ফেসবুক পোস্ট তার ছবি ব্যবহার করেছে এবং তাকে “গোপন আওয়ামী লীগ নেতা” এবং “ইসলাম বিরোধী” বলে বর্ণনা করেছে।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, এমপির রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
মামলার প্রতিক্রিয়ায় কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসেন বলেন, দলটি মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে এবং আইনি মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
খোকন তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুবদল কর্মী বলে জানান।
তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য ও তার রাজনৈতিক নেতা উভয়ের বিরুদ্ধেই মানহানিকর মন্তব্য করায় তিনি মামলাটি করেছেন।
ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।