সাঁতারের উপকার ও ও সীমাবদ্ধতা সমূহ

0
419
সাঁতারের উপকার ও ও সীমাবদ্ধতা সমূহ

সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতিদিন খানিকক্ষণ ব্যায়াম প্রয়োজন আমাদের। দিনের জন্য বরাদ্দ নানা রকম ব্যায়ামের পরিবর্তে সাঁতার কাটলেই কিন্তু সহজ হয়ে যায় এই ব্যায়ামের কাজ। কারণ সাঁতারের মতো ভালো ব্যায়াম খুব কমই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মাথা থেকে পায়ের আঙুল’- সাঁতার গোটা শরীরের ব্যায়াম করিয়ে নেয়। এমনকি শুধু পানিতে ভেসে থাকাও শরীরের জন্য ভালো। গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে তো বটেই, বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাড়ির পাশের পুকুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধাপাধাপি করে। এমনকি স্নানের সময় বড়রাও দু-দণ্ড সাঁতার কেটে নেয়। তবে শহরাঞ্চলে সেই সুযোগ নেই।

নিচে সাঁতারের কিছু উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

  • সাঁতার কাটলে হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুস সুস্থ থাকে। যারা রোজ সাঁতার কাটেন, তাদের হার্টের সমস্যাও কমে অনেকখানি।
  • অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করতে চাইলে সাঁতারের বিকল্প নেই।
  • আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কিংবা হাঁটু, পায়ের ব্যথা থাকলেও সাঁতার কাটতে পারেন। অনেক সময়ে এই ধরনের রোগে ব্যায়াম করতে সমস্যা হলেও সাঁতারে সাধারণত তা হয় না। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের মতো রোগে অস্থিসন্ধির যন্ত্রণা, আড়ষ্ট ভাবও কমাতে সাহায্য করে সাঁতার।
  • হতাশা দূর করতে সাঁতার খুবই কার্যকর। ডিমেনশিয়া জাতীয় নানা মানসিক সমস্যায় মস্তিষ্ক ও মন ভালো রাখার অন্যতম উপায় হিসেবে সাঁতারকে বেছে নেন বিশেষজ্ঞরা।
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্যজনিত অনিদ্রাও দূর করে সাঁতার। ইনসমনিয়ার মতো সমস্যায় যারা ভোগেন, তারা নিয়মিত সাঁতার কাটলে ভালো থাকবেন। ঘুমও হবে ভালো।
  • পেশি শক্তিশালী করতে সাঁতার অপরিহার্য।

তবে এই উপকারের কতটুকু কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করে সাঁতারের ওপর। সোজা কথায় কিভাবে সাঁতার অনুশীলন করা হচ্ছে তার ওপরই নির্ভর করে এর উপকারিতা।

পুকুরে বিভিন্নভাবে সাঁতার অনুশীলন করা যায়। চিত হয়ে সাঁতার কাটা যায়, এভাবে ধীরে ধীরে সাঁতরালে খুব একটা শক্তিও ব্যয় করতে হয় না। আবার ব্রেস্ট স্ট্রোক সাঁতারে হাত, পা, কাঁধ, নিতম্ব এবং আরো অংশ ব্যবহার হয়। যদি দ্রুত সাঁতার কাটা হয় অর্থাৎ অন্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা হয় তাহলে সেই সাঁতার থেকে হৃৎপিণ্ডেরও উপকার হয়। দ্রুত সাঁতরানোর সময় শক্তি সরবরাহের জন্য হৃৎপিণ্ড দ্রুত কাজ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়ার কারণে ফুসফুসও শক্তিশালী হয়।

কিছু কিছু ইনজুরি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সাঁতার দারুণ এক ব্যায়াম। ধরা যাক, আপনি একজন দৌড়বিদ। স্বাভাবিক ইনজুরির কারণে দৌড়ের ধকলটা হাঁটুর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন ক্ষেত্রে নিয়মিত সাঁতারে আপনি উপকার পেতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, দৌড়, সাইক্লিং এবং ফিটনেসের জন্য অনুশীলনের আগে এবং পরে সাঁতার দারুণ উপকারী। কেননা সাঁতার হার্টবিট, রক্ত সঞ্চালন এবং মাংসপেশিকে উষ্ণ হতে সহায়তা করে। তা ছাড়া সাঁতারে কোনো একটি বিশেষ অঙ্গেরও ব্যায়াম সহজেই করা যায়। যেমন শুধু হাতের ব্যায়াম করতে চাইলে লম্বা একটা ভাসমান বোর্ডের ওপর লম্বা হয়ে শুয়ে শুধু হাত ঘোরালেই হলো। একইভাবে শুধু পায়ের ব্যায়ামও করা যায়।

সাঁতার চমৎকার এক ব্যায়াম হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যদি আপনার লক্ষ্য হয় আকর্ষণীয় মাসল তৈরি করা, তাহলে সাঁতার থেকে খুব বেশি উপকার পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে আপনাকে অন্য ব্যায়াম বেছে নিতে হবে। একইভাবে হাড় শক্ত করার লক্ষ্য থাকলেও অন্য ব্যায়ামের প্রতি মনোযোগী হতে হবে আপনাকে।

সীমাবদ্ধতা সমূহ

  • হাঁপানির কিংবা সাইনাসের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর সাঁতার  কাটবেন।
  • গর্ভবতী নারীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন অবশ্যই।
  • সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বক। একই সুইমিং পুল একাধিক মানুষ ব্যবহার করার ফলে ত্বকে অ্যালার্জি, র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
  • অত্যধিক ক্লান্ত থাকলে, ঠাণ্ডা লাগলে কিংবা প্রচণ্ড গরম থেকে এসেই সঙ্গে সঙ্গে পানিতে নামবেন না। খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারপর নামুন।
  • বিদ্যুৎ চমকালে বা মেঘ ডাকলে পুল থেকে উঠে পড়ুন সঙ্গে সঙ্গে।
  • সাঁতার কাটার সময় মুখে চিউয়িংগাম জাতীয় কিছু রাখবেন না।
  • সাঁতার কাটার সময়ে লাইফগার্ডের নিয়মাবলি মেনে চলবেন অবশ্যই।

পুকুরে কিংবা নদীতে নেমে শুধু সাঁতরালেই হবে না, নিয়ম মেনে সাঁতার কাটতে হবে। তাতে কোনও সমস্যা বোধ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here